প্রতিরক্ষা (Defence)

প্রতিরক্ষা শিল্প হলো বহু দেশেরই অন্যতম অর্থনৈতিক ইউনিট। এটি যুদ্ধাস্ত্র এবং বিশেষ যুদ্ধ সরঞ্চাম তৈরি করে। কিছু কিছু দেশ তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে এতটাই উন্নত ও বর্ধিত করেছে যে এখন ঐ সমস্ত যুদ্ধাস্ত্র অন্যান্য দেশে তারা রপ্তানি করছে। আইসিটি এবং প্রতিরক্ষা শিল্প বা ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী আন্তঃসম্পর্ক। এদের উভয়েরই একে অপরের সাথে রয়েছে একটি সরাসরি ও ইতিবাচক সর্ম্পক। আইসিটিতে ক্রমোন্নতি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে বহুবিধ সুবিধা নিয়ে এসেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে অত্যন্ত কার্যকর ও নির্ভুল মরণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। আশেপাশের এলাকাকে ধ্বংস না করেই অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট লক্ষবস্তুকে নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতাপ্রাপ্তি সম্ভব হয়েছে।

 

নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের দিকে নিজস্ব বাহিনীর অগ্রসরমানতাকে মনিটর করা, যুদ্ধ ময়দানে তাদের পজিশন, হতাহতদের সংখ্যা, যুদ্ধ সরঞ্জামাদি সরবরাহের পর্যায় ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

 

রিয়েলটাইম কমব্যাট সার্ভিল্যান্স

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে যুদ্ধ ময়দান থেকে যুদ্ধের দৃশ্যাবলি রিয়েলটাইমে কমান্ড সেন্টারে বসে প্রত্যক্ষ করা যায়। লক্ষ্যবস্তু এবং তাদের অবস্থানের মধ্যবর্তী সীমাকে নিখুঁতভাবে গণনা, এক পয়েন্ট থেকে অন্য পয়েন্টে গমনে কী পরিমাণ সময় লাগবে তা নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যায়।

 

আকাশ ও মহাকাশে শ্রেষ্ঠত্ব

অত্যাধুনিক অনেক উড়োজাহাজ তৈরি করা হয়েছে যেগুলো স্বাধীনভবে আকাশে উড়তে পারে। শত্রুপক্ষের চোখে ফাঁকি দিয়ে এগুলো লঞ্চ-বেস থেকে হাজার কিলোমিটার দূরের কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নিজে থেকে উড়ে যেতে পারে এবং গোপন খবরাখবর প্রেরণ এবং মিসাইল ছুঁড়ে লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে পারে। চালকবিহীন এসব বিমানগুলো ‘ড্রোন’ নামে পরিচিত। মিলিটারি যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকে দূর করতে এখন আধুনিক দেশগুলোর সমরশক্তিতে স্যাটেলাইটভিক্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে নিজ পক্ষের প্রতিটি সৈনিকের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্যের পাশাপাশি তার সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে। এ সমস্ত স্যাটেলাইট ভূমিতে নির্মিত অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে দূরে করে দিয়েছে।

 

Advertisements

advertise

Copyright © Tutorials Valley