ন্যানো টেকনোলজি (Nanotechnology)

ন্যানোটেকনোলজি হলো বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি যা পরিচালিত হয় ন্যানো স্ক্যাল যেটি ১ থেকে ১০০ ন্যানো মিটার হয়ে থাকে। কোন কিছুর একশ কোটি ভগের এক ভাগকে ১ ন্যানো বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১ সেকেন্ডে এর একশ কোটি ভাগের এক ভাগকে ১ ন্যানো সেকেন্ড বলে। এক ইঞ্চির দুই কোটি ৫৪ লক্ষ ভাগের এক ভাগ হলো এক ন্যানোমিটার হয় তাহলে পৃথিবীর সাইজ হবে এক মিটার। ন্যানোসায়েন্স এবং ন্যানোটেকনোলজি হলো একক অণু-পরমাণু দেখা এবং নিয়ন্ত্রণ করার সামর্থ্য। এই পৃথিবীর সব কিছু যা আমরা খাই, যা আমরা পড়ি, ঘরবাড়ি যাতে আমরা বাস করি, আমাদের দেহের সব কিছু ইত্যাদি পরমাণু দিয়ে গঠিত। কিন্তু পরমাণু এতো ছোট যে খালি চোখে তা দেখা যায়া না। ১৯৮০ সনে ওইগ এর গবেষকরা প্রথম আবিষ্কার করেন ঝঞগ (ঝপধহহরহম ঞঁহহবষরহম গরপৎড়ংপড়ঢ়ব) এই যন্ত্রটি দিয়ে অণুর গঠন পর্যন্ত দেখা সম্ভব। এই যন্ত্রটির আবিষ্কারই ন্যানোপ্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে। এতে ছোটখাট একটা পিঁপড়াকে মনে হবে একটা ডাউনোসর।

ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সৃৃষ্টি হবে। যেমন- ক্যান্সার চিকিৎসায়, রেডিয়েশন দিলে আক্রান্ত কোষ ছাড়াও আশেপাশের আরও অনেক ভাল কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে বিকলঙ্গতা দেখা দিতে পারে। ন্যানো প্রযুক্তি কাজে লাগানো গেলে শুধুমাত্র আক্রান্ত কোষগুলোতেই রেডিয়েশন দেয়া যাবে। ন্যানোপ্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসাবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স, শক্তি উৎপাদনসহ বহু ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। একুশ শতাব্দিতে এসে আইটি নিয়ে যতটা কথা শোনা যাচ্ছে, ততোটাই শোনা যাচ্ছে এই ন্যানোপ্রযুক্তি নিয়ে। জাপানী জাতীয় গবেষনা বাজেটের সিংহভাগই ব্যবহৃত হচ্ছে ন্যানোপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ইউরোপ, আমেরিকা, চীন, কোরিয়া ইত্যাদি দেশগুলো ন্যানোপ্রযুক্তির উপর ব্যাপক গবেষণা করছে। কেন ন্যানোপ্রযুক্তি নিয়ে সবার এত আগ্রহ ? তার একটা সহজ উত্তর হল, সামনের দিন হবে ন্যানোপ্রযুক্তি যুগ। হৃদরোগ হয়েছে? ন্যানো রোবোট শরীরে ভিতরে ঢুকে হাঠের সব সমস্যা মেরামত করে দেবে। হাতের ঘড়িটি হয়ে যাবে কমপিউটার। ন্যানোটেকনোলজির কল্যাণে বিভিন্ন জিনিস হবে অনেক ছোট এবং হালকা।

ন্যানোটেকনলজির মাধ্যমে অণু-পরমাণুকে ভেঙ্গে কিংবা জোড়া লাগিয়ে আগামী দিনে অনেক কিছুই করা সম্ভব হবে। ন্যানোটকনলজির ক্ষেত্রে দুটি প্রক্রিয়া আছে। একটি হল উপর থেকে নীচে (ঞড়ঢ় ঃড় ইড়ঃঃড়স) ও অপরটি হল নীচ থেকে উপরে (ইড়ঃঃড়স ঃড় ঞড়ঢ়)। টপ টু ডাউন পদ্ধতিতে কোন জিনিসকে কেটে ছোট করে তাকে নির্দিষ্ট আকার দেয়া হয়। এই ক্ষেত্র সাধারণত ঊঃপযরহম প্রক্রিয়াটি সম্পর্কিত। আর বটম টু টপ হল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারের ছোট জিনিস দিয়ে বড় কোন জিনিস তৈরি করা। আমাদের বর্তমান ইলেক্ট্রনিক্স হল, টপ টু ডাউন প্রযুক্তি। আর ন্যানোটেকনোলজি হল, বটম টু টপ প্রযুক্তি। ন্যানোপ্রযুক্তির সাহায্যে ন্যানোমিটার স্কেলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বস্তুুর উপাদান দিয়ে কাংক্ষিত কোন বস্তু তৈরি করা যায়।

বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ইলেক্ট্রনিক্স খাদ্য, প্যাকেজিং, ক্লথিং, ফুয়েল ক্যাটালিস্ট, গৃহ-সামগ্রী, ঔষধ ইত্যাদিতে ন্যানোটেকনোলজী ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১১ এর মার্চে এক সমীক্ষায় প্রায় ১৩০০ আইটেম ন্যানোটেকনোলজীর ব্যবহার দেখা গেছে। কমপিউটার এর প্রসেসর এর ভিতর রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ন্যানোমিটার স্কেলের সার্কিট। আর তাতে ব্যবহৃত হচ্ছে ন্যানোটেকনোলজি। ইন্টেল প্রসেসর সিলিকন এর উপর প্যাটার্ণ করে সার্কিট বানান হয় তার বর্তমান সাইজে হল ৩০ ন্যানোমিটার। ভবিষ্যতে আরো ছোট সাইজে নিয়ে আসলে প্রসেসর এর আকার অনেক ছোট হয়ে আসবে। সেই দিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন আমাদের মোবাইল  ফোনটি কাজ করবে কম্পিউটারের মত্য। (বর্তমানেই এই ধরনের কিছু মোবাইল ফোন বাজারে এসেছে)। এছাড়া রয়েছে কমপিউটারের হার্ডডিস্ক। এই হার্ডডিস্কের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা দিন দিন বাড়ছে। এই হার্ডডিস্কেও ব্যবহৃত হচ্ছে ন্যানোটেকনলজি। এখন বাজারে টেরাবাইটের হার্ডডিস্ক পাওয়া যাচ্ছে। ন্যানোটেকনলজির সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম গবেষণা, পরীক্ষা ও প্রয়োগের সকল ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

 

Advertisements

advertise

Copyright © Tutorials Valley