বাংলা সাহিত্যের বিকাশে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তাঁর মধ্যে কলকাতার “হিন্দু কলেজ” বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কলকাতার মধ্যবিত্ত সমাজের সন্তানেরা আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের যথার্থ সুযোগ লাভ করে।

“হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও” ছিলেন হিন্দু কলেজের একজন শিক্ষক এবং ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা। ডিরোজিও শিক্ষা ছিল “আস্তিকতা হোক, নাস্তিকতা হোক, কোন জিনিসকে পূর্ব থেকে গ্রহণ না করা; জিজ্ঞাসা ও বিচার”। ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট ডিরোজিওর বাঙালি শিষ্যরাই “ইয়ংবেঙ্গল” নামে পরিচিত।

১৮৩১ সালে ইয়ংবেঙ্গলের প্রকাশ্য আত্নঘোষণা করা হয়। ডিরোজিওর আদর্শে অনুপ্রাণিত ইয়ংবেঙ্গল ছাত্রগোষ্ঠী সর্বগ্রাসী ক্ষুধায় ইউরোপীয় ভাব চিন্তাকে আত্নস্থ করেছিলেন। ছাত্র হিসেবে সকলেই ছিলেন প্রতিভাবান, ইংরেজি শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহী এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির ব্যাপারে অত্যন্ত সমালোচনামুখর।

বিবিধ সংবাদপত্র পরিচালনায়, পুস্তিকা রচনায়, শিক্ষা বিস্তারে, বিতর্কে, আলোচনায়, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনে কৃষ্ণমোহন বন্দোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, তারাচাঁদ চক্রবর্তী, দক্ষিনানন্দ মুখোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, প্যারীচাঁদ মিত্র, রাধানাথ শিকদার প্রমুখ শিষ্যরা যুক্তি ও মানবাধিকারের দীপ্ত বাণী ঘোষণা করেছিলেন।

ইয়ংবেঙ্গল গ্রুপের মুখপত্ররুপে “এনকোয়েরার”, “জ্ঞানান্বেষণ” প্রভৃতি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

Advertisements

advertise

Copyright © Tutorials Valley