আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা


  

আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা (ICT Dependent Production System)

আজকের বিশ্বের শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থা প্রায় পুরোটাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর। যেকোনো পণ্য তৈরির একেবারে শুরু থকে ডিজাইন, কাঁচামাল সংগ্রহ, ব্যবহার, পণ্য উৎপাদন, বিপণন পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। শিল্প কারখানায় কম্পিউটার মানুষের প্রধান সহযোগী। দ্রব্যাদি বা যন্ত্রপাতির নকশা, যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার যথেষ্ট সাফল্য এনে দিয়েছে।

উৎপাদন ব্যবস্থায় টেলিযোগাযোগ সেবা ঃ টেলিযোগাযোগ ছাড়া আজকাল কোনো শিল্পের উৎপাদন ব্যবস্থা কল্পনাই করা যায় না। বৃহৎ মাঝারি কিংবা ক্ষুদ্র শিল্পগুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন পড়ে যাদের মধ্যে পণ্যের কাঁচামাল সরবরাহকারী থেকে শুরু করে পণ্যের ক্রেতা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে জড়িত ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। উৎপাদন ব্যবস্থায় সমন্বয় সাধনে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বহু শিল্প কারখানায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য ওয়্যারলেস সেবা চালু আছে।

 

উৎপাদন ব্যবস্থায় ইন্টারনেট ঃ ইন্টারনেট ছাড়া শিল্পোৎপাদন ব্যবস্থা আজ অচল। বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে মেইল চালাচালির ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। কোনো কোম্পানির একাধিক উৎপাদন প্ল্যান্ট থাকলে সেগুলোর সাথে উৎপাদন বিষয়ক সমন্বয় সাধনে ইন্টারনেটনির্ভর বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। এমন অনেক গ্রুপ অব কোম্পানি রয়েছে যাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত এমনকি সেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে কোম্পানির মালিক থেকে শুরু করে পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দের পক্ষে সব সময় সবগুলো স্থানে স্বশরীরে গিয়ে তদারকি করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে দূরত্বকে ঘুচিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বজার রাখতে ইন্টারনেট নির্ভর প্রযুক্তিগুলো সহায়তা করে। ইন্টোনেট নির্ভর সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থার মাধ্যমে হেড অফিসে বসেই একাধিক কোম্পানির কাজকর্ম এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপর সরাসরি নজর রাখা যায়। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ দূরে বসেই কারখানার বিভিন্ন স্থাপনার ভিডিও প্রত্যক্ষকরণ, ভিডিও কনফারেন্সিং, ভিডিও চ্যাটিং ইত্যাদির মাধ্যমে এই সুবিধা পান। এসব কাজে বহু শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে যেগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে তার প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে সেগুলোতে নিজস্ব ভিস্যাট ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

 

ক্যাড/ক্যাম এর ব্যবহার ঃ কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন (ক্যাড)-এর ব্যবহার পণ্যকে প্রত্যক্ষ করতে এবং ডিজাইন তথ্যসমূহের সাথে যোগাযোগে ব্যবহৃত প্রচলিত স্কেচ ও প্রকৌশলিক ড্রয়িংগুলোকে অপসারণ করেছে এবং সেই সথানে কম্পিউটারকে গ্রাফিক্সকে প্রতিস্থাপন করেেছ। অন্যদিকে কম্পিউটার এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে কম্পিউটারগুলো বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন কার্যক্রমকে অটোমেটেড করার মাধ্যমে ম্যানেজার, ম্যানুফ্যাকাচারিং ইঞ্জিনিয়ার এবং উৎপাদন কর্মীদের সহায়তা করে থাকে।

 

উপাত্ত সংগ্রহ ঃ শিল্প কলকারখানার উৎপাদন কাজের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার নানা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন মোটরের গাতি কম্পাঙ্ক, তাপমাত্রা, ব্যবহৃত তরল ও রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণ, এদের প্রবাহ, ঘনত্ব ইত্যাদিসহ আরও বিভিন্ন ধরনের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে তা কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।

 

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ঃ কল কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের মান যথাযথ হচ্ছে কি না তা কম্পিউটারদিয়ে তথ্য উপাত্তকে যাচাই করে বের করা যায়। এছাড়াও উৎপাদন কাজে যে সকল যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে তা ঠিকমতো কাজ করছে কি না তার সুষ্ঠু তদারকিতে কম্পিউটার ব্যবহার করা যায়। বিভিন্ন রকম রাসায়নিক কারখানা, ইস্পতি কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইত্যাদিতে কম্পিউটারের সাহায্যে যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এসব কেন্দ্রে বিভিন্ন যন্ত্রের চাপ ও তাপমাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজন হয়। কম্পিউটারে এসকল ভৌত রাশি পরিমাপ করে এবং তার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

 

শিল্পক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার ঃ কম্পিউটার-এইডেড ম্যানুফেকচারিং (ক্যাম) এ রোবোটিক্সকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। শিল্পক্ষেত্রে কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, বিপজ্জনক ও জটিল কাজগুলো রোবটের সাহায্যে করা হয়। বিশেষ করে গাড়ি ও যানবাহন তৈরির কারখানা, খনি শ্রমিক, ঢালাইয়ের কারখানা, ভারী মাল ওঠানো বা নামানো, কোন যন্ত্রাংশ সংযোজন ইত্যাদি কাজে রোবটের ব্যবহার লক্ষণীয়।

 

Advertisements

advertise

Copyright © Tutorials Valley